দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সৃষ্টি হতে যাচ্ছে এক বিশাল সুযোগ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদ পূরণের এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম গণমাধ্যমকে জানান, আগামী ছয় মাসে কতজন জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে পিএসসি তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জানানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও এই নিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে ব্যয় হবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। বাকি ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে আগামী অর্থবছর ২০২৬-২৭ এর জুলাই ও আগস্ট মাসে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি।
পদভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, যেখানে শূন্য রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জনের বিপরীতে শূন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জনের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জনের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।