বাংলাদেশের সরকার জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় শহীদদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিরা সরাসরি ভাতা না পেয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার মাধ্যমে সহায়তা পাবেন।
শহীদদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকার এবং আহতদের জন্য চারটি শ্রেণি অনুযায়ী ১ থেকে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহীদদের পরিবার: ৮২৬ জন শহীদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হবে।
আহত ব্যক্তির শ্রেণিভাগ, ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার জনকে ২ লাখ টাকার করে। ‘বি’ শ্রেণির ৩ হাজার জনকে ১ লাখ টাকার করে। ‘সি’ শ্রেণির ৪ হাজার জনকে ১ লাখ টাকার করে। ‘ডি’ শ্রেণির ৭ হাজার জনকে ৫০ হাজার টাকার করে। এই পরিকল্পনার প্রথম কিস্তি জানুয়ারি ২০২৫ মাসে কার্যকর করা হবে এবং ফেব্রুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদান শুরু হবে।
সঞ্চয়পত্র কিনতে মোট ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত সুবিধা, শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা আয়কর রিটার্ন দাখিল ছাড়াই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। মুনাফা নিতে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই অধিদপ্তর হতাহতদের সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ৮৩৪ জন শহীদ এবং ১২,১৪৭ জন আহত হয়েছেন। শহীদদের নাম ইতোমধ্যেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। আহতদের বিদেশে চিকিৎসার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
শহীদ ও আহতদের আর্থিক সহায়তা সুষ্ঠুভাবে প্রদান নিশ্চিত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং করবে। যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিতে আপত্তি জানিয়েছেন, তাদের জন্য নগদ সহায়তা বা বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো শহীদ পরিবার এবং আহতদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।