বহুল আলোচিত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকালেই ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে, যা মামলাটির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশের মানুষ পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
এর আগে, গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নেয়। একই বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
এছাড়া পলাতক আসামিদের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এখন সবার নজর ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকে, যা এই আলোচিত মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে।