দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিসমৃদ্ধ শাকসবজি চাষ সম্প্রসারণ এবং ফলজ বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, লেবুর চারা ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
খরিপ-২ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি (উফশী/হাইব্রিড) আবাদ সম্প্রসারণ, লেবু চাষ বৃদ্ধি এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের সহযোগিতা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের কৃষিবান্ধব নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ শাকসবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা, ফলজ গাছের আবাদ সম্প্রসারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার নির্বাচিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উন্নতমানের বীজ, লেবুর চারা এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ মোকলেদা খাতুন মীম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহিদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শামীম আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. মতিউর রহমানসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এ ধরনের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি সবজি ও ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।