ইরানের রাজধানী তেহরানে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC Persian এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং এর সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশন।
হামলার পরপরই তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়র জানিয়েছেন, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে হামলার পর পুরো শরিফ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতেও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে Tehran University of Science and Technology এবং Shahid Beheshti University-সহ তেহরানের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাত গভীর হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিমানের তৎপরতা বেড়ে যায়। বোরোজের্দ শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে একাধিক যুদ্ধবিমান খুব নিচু দিয়ে উড়ে যায়, যা সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল।
একই সময়ে শিরাজ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া কওম শহরের বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে শহরের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। কওম প্রদেশের উপ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, একটি আবাসিক এলাকা হামলার শিকার হয়েছে এবং তিনি সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে চুক্তির জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন এবং হুমকি দেন, এর মধ্যে সমঝোতা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে এবং দ্রুত একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ইরান সরকার বারবার দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেনি।
সামরিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।