মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় হামলা, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং আদালতের ওয়ারেন্ট জারির পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. জিহাদ মজুমদার। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার চন্দ্রের বাড়ি বাজার সংলগ্ন নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জিহাদ মজুমদার অভিযোগ করেন, গত ৪ মে সন্ধ্যায় মোস্তফা কামাল মুকুট, মোবারক শেখসহ তাদের সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় তার বাম হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
জিহাদ মজুমদার জানান, পশ্চিম হলদিয়া দিঘীরপাড় মসজিদের নিজস্ব মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে তিনি ইট, সিমেন্ট ও রডের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। নতুন মার্কেট নির্মাণের পর মিটার সংযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করতেন বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মোস্তফা কামাল মুকুট, মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার মোবারক শেখ, অসীম শেখ, বিল্টু শেখ, ইব্রাহিমসহ প্রায় ২০ জন তার ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্রও আনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, তিনি হলদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিহাদ মজুমদারের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য তিনি হামলাকারীদের কাছ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র ছিনিয়ে নেন। পরে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। অথচ পুরো ঘটনাস্থল সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় তার মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সম্প্রতি মামলার ওয়ারেন্ট লৌহজং থানা-এ পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী জিহাদ মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।