নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফতুল্লা এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লুটপাটের অভিযোগে আটক তিনজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় কোনো সদস্য আহত না হলেও পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বাড়িতে লুটপাটের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। তবে পরে জনি ও আজাদ নামে দুই ব্যক্তি তাদের সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যরা লুটপাট প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সংঘবদ্ধ হামলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যদিও এতে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি, তবুও ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত প্রায় ৩০ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অন্তত তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার বোয়ালিয়া খাল এলাকায় মাদক কারবারিরা র্যাবের গোয়েন্দা দলের ওপর হামলা চালায়। এতে র্যাব-১১’র এসআই নজিবুলসহ তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।
তারও আগে সোমবার গভীর রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার সহযোগীরা পুলিশকে ঘেরাও করে হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় থানার ওসিসহ অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন।
ধারাবাহিক এসব হামলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।