প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, যারা এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা শুধু গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ নয়, সরকারেরও প্রতিপক্ষ।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলে আলাদা পত্রিকা বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায়, কিন্তু গণমাধ্যমে আগুন দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “ভয় দেখানোর কাজ যারা করে, তারা আমাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষ। একে অপরকে প্রতিপক্ষ ধরে রাখলে গণতান্ত্রিক লড়াই সম্ভব নয়।” তিনি হামলা প্রতিরোধে সরকারের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে স্বীকার করেন। বলেন, গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকারও এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে—এ বিষয়টি সরকার উপলব্ধি করে।
তথ্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নিউ এজ, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও যমুনা টিভির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসের মধ্যে সম্প্রচার কমিশন ও প্রেস কমিশন অধ্যাদেশ জারি এবং তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর অভিযোগ করেন, সরকারের একটি অংশ প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে দিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী কামাল আহমেদ, সারা হোসেন, খায়রুল আনোয়ার, ফাহিম আহমেদ, মো. আল মামুন, তালাত মামুন, ইলিয়াস হোসেন ও মিল্টন আনোয়ার।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন নূরুল কবীর। গণমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। বিজেসির সম্মেলনেও ওই হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে।