মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কয়েকটি খালি তেল ট্যাংকারে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের একাধিক খালি ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, ইরানের সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-এর কাছে অবস্থিত। ফলে এই হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন ছুড়েছে। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ৫৫১টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ২৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ২ হাজার ২৬৩টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় দেশটিকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আমিরাত উপকূলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুবাইভিত্তিক সাংবাদিক নাতাশা তুরাক বলেন, যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, মূলত সেসব এলাকাতেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান এই সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।