দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। রাস্তা-ঘাট অবরোধ, যান চলাচলে বাধা এবং অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চায়।
শনিবার (২৩ মে) ত্রিশাল-এ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে, যান চলাচল ব্যাহত করছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মূলত আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইনকে আইনের মতো চলতে দিতে হবে। কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রাখলেই বোঝা যায়, যাদের দেশের মানুষ ৫ আগস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের সঙ্গে এখন কিছু গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ শুরু হয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক আঁতাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা আবারও দেখা যাচ্ছে। তবে দেশের জনগণ এবারও যেকোনো স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যারা বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে কোনো কথা বলছে না। বিশেষ করে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এসব ইতিবাচক কার্যক্রম আড়াল করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয় গ্রামের সাধারণ মানুষ। কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষদের জীবন-জীবিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, “এই ৪০ কোটি হাত দিয়েই নতুন ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তাহলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষাংশে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে।