ঐতিহ্যবাহী ও পীর খানজাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে সর্বদলীয় প্রতিরোধ কমিটির ডাকে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে খুলনা-মংলা মহাসড়কের কাটাখালী চৌরাস্তা মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অবরোধ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। তিনি বলেন, “পীর খানজাহান আলী সাড়ে আট শত বছর আগে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসন কোনোভাবেই কর্তন করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি এ আসন পুনর্বহাল না করা হয় তবে বাগেরহাটের নয়টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে দুর্বার আন্দোলনে নামবে।” তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে অবিলম্বে আসন পুনর্বহালের দাবি জানান।
এর আগে শামীমুর রহমান ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন এবং আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি তুলে ধরেন। তিনি রামপাল-মোংলা আসন বজায় রাখার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে প্রমাণাদি জমা দেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফকিরহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম দোয়া, বিএনপি নেতা ফকির তরিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী খেলাফত মজলিস, ইমাম পরিষদসহ সর্বদলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ কারিগরি টিম আকস্মিকভাবে রামপাল-মোংলা আসন বিলুপ্তির সুপারিশ করে এবং বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।