ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ফের বিক্ষোভ করেছে উগ্রপন্থীরা। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে দুটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা এলাকা ত্যাগ করে। এর আগের দিন শনিবার রাতেও একই স্থানে অনুরূপ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে দিল্লির চানক্যপুরী এলাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মূল ফটকের সামনে একদল হিন্দু চরমপন্থী অবস্থান নেয়। তারা বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণ বিক্ষোভের পর তারা সেখান থেকে সরে যায়।
শনিবারের ওই ঘটনার খবর রোববার দুপুর নাগাদ বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও শুরুতে ভারত কিংবা বাংলাদেশ—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে বিকেলের দিকে প্রথমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ফেসবুকে একটি বিবৃতি দেন। তার কিছুক্ষণ পর ঢাকায় একটি প্রেস ব্রিফিং করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একদল যুবক বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাসের ঘটনার প্রতিবাদে স্লোগান দেয়। তবে তারা নিরাপত্তা বেষ্টনি ভাঙার চেষ্টা করেনি কিংবা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে দাবি করা হয়।
তবে ভারতের এ বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বেষ্টনি পেরিয়ে হাইকমিশন চত্বরে ঢুকে পড়ে এবং হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দলটি ছিল ‘হিন্দু চরমপন্থী’। তারা বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাকর স্লোগান দেয়, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উভয় দেশেই এ নিয়ে নানা তিক্ত ঘটনা ঘটছে। গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ‘সন্দেহভাজন হামলাকারী ভারতে পালিয়েছেন’—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ঢাকায় ভারতবিরোধী প্রচারণা নতুন করে গতি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বারবার বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও চাপ তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় পক্ষের সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।