পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ ও সাধারণ লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট দুই দিন ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আগামী ২৩ ও ২৪ মে দেশের সব ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা নিয়মিত ব্যাংকিং সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এই সময়ে গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন, বোনাস ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঈদের ছুটিতে বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে বাড়তি চাপ সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংককে।
তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। বিশেষ করে ঢাকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্প এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শাখায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে। তবে গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এছাড়া দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোও ঈদের ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ ভাতা ও সুবিধা পাবেন। এতে ছুটির মধ্যেও জরুরি ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঈদের আগে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয় এবং ব্যাংক বন্ধ থাকলে শিল্পখাতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগাম এই সিদ্ধান্তে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা স্বস্তি পাবেন।।