ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া গ্রামে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রেনু বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) রাতে উপজেলার বেজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রেনু বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা।
আহতের ছেলে এবং শহীদ নুর আলী কলেজের প্রভাষক রবিউল ইসলাম জানান, পারিবারিক চলাচলের রাস্তার জমি বিক্রি নিয়ে তার চাচা ইশারত আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে জমির ক্রেতা হিসেবে পরিচিত বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মাহমুদসহ ৫ থেকে ৬ জন তাদের বাড়ির সামনে এসে হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে হামলা চালান। হামলার সময় রেনু বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত রেনু বেগমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী রেনু বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বেজপাড়া গ্রামের ফিরোজ মাহমুদ, নাঈম হোসেন ইমন, মাসুদুর রহমান, ইশারত আলী ও গোলাপি বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রায়ই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।