ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
বুধবার (৬ মে) চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ-এ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবুও আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবিকে টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না।
ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের বৈঠকে জেলা প্রশাসকদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা। এছাড়া যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বা নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে আইনগত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। মহাসড়ক ও রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহার এবং ফেরিঘাটে যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তে আধুনিক মেশিন সরবরাহের কথাও জানান মন্ত্রী।
মাদক ও অনলাইন জুয়াকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, যেমন অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মকে এসব ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে।