ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় থানার সামনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলাকালে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার থানা চত্বরে বিএনপির পার্টি অফিসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান–এর নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা চলছিল। সভা চলাকালে হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত কিছু ব্যক্তি পুলিশের ওপরও চড়াও হন। এতে পুলিশ সদস্যসহ মোট ১২ জন আহত হন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা লুৎফুর রহমান লেন্টু বলেন, পার্টি অফিসে আমাদের আলোচনা সভা শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। এ সময় মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম তার সমর্থকদের নিয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান নেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ বিষয়ে মো. জেল্লাল হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), কালীগঞ্জ থানা বলেন, একই সময়ে থানায় তাবাসসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। তখন থানার সামনের পার্টি অফিসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের ওপর হামলা হয়। এতে পুলিশসহ ১২ জন আহত হন।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ যেন বড় আকার ধারণ না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।