আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে পোলিং ও নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মশালার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য এজেন্টদের প্রস্তুত ও সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পৃথক পর্বে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দিঘলিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে মনোনীত নারী ও পুরুষ পোলিং এজেন্টরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ কামরুজ্জামান টুকু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা শেখ আব্দুর রশিদ এবং অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিকসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রশিক্ষণে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, কেন্দ্র দখল ও অনিয়ম প্রতিরোধ, ফলাফল শিট (ফরম–সি) যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা এবং ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিটি কেন্দ্রে সজাগ ও প্রশিক্ষিত এজেন্ট থাকা জরুরি।
তারা আরও বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের রায় সুরক্ষিত রাখতে পোলিং এজেন্টদের আত্মবিশ্বাসী ও সচেতনভাবে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে এজেন্টদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের কর্মশালা তাদের দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অনিয়ম মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত থাকবেন।
উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, দিঘলিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৮৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১ হাজার ৪৮২ জন এবং নারী ভোটার ৫১ হাজার ৩৫৮ জন। চারটি ইউনিয়নের মধ্যে গাজীরহাটে ভোটার ১৬,৬১১ জন, বারাকপুরে ২১,৬৩৬ জন, দিঘলিয়ায় ২৭,৮২৮ জন এবং সেনহাটিতে ৩৬,৭৬৫ জন। উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩১টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৬৯টি।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্টদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে দিঘলিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।