ঝিনাইদহ শহরের একটি জনপ্রিয় পোশাক বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বন্ড ক্লথিং হাউস’-এ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, যুবলীগ নেতা আশফাক মাহমুদ জনের মালিকানা রয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালানো হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোনো মালিকানা বা শেয়ার সম্পৃক্ততা নেই।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বন্ড’ ক্লথিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বন্ড’ একটি সম্পূর্ণ দেশীয় পোশাক প্রস্তুত ও বিপণন ব্র্যান্ড, যার আউটলেট দেশের বিভিন্ন বড় শহরে রয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের এইচএসএস সড়কের সাবদার বিশ্বাস মার্কেটে ভাড়া নেওয়া দুটি ফ্লোরে গত তিন বছর ধরে নিয়মিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যুবলীগ নেতা আশফাক মাহমুদ জন ‘বন্ড ক্লথিং হাউস’-এর কোনো মালিক নন এবং তার কোনো শেয়ারও নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যে ভবনে ‘বন্ড ক্লথিং হাউস’ পরিচালিত হচ্ছে, সেটির একক মালিকানা কারও নেই। পৈত্রিক সূত্রে ওই ভবনের চারজন যৌথ মালিক রয়েছেন, যার মধ্যে আশফাক মাহমুদ জন একজন মাত্র। তবে ভবনের মালিক হওয়া আর ভাড়াটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া এক নয়, বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে যুবলীগ নেতার মালিকানার গুজব ছড়িয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে উসকে দেয়। এর ফলেই শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বন্ড ক্লথিং হাউসের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঝিনাইদহ জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা বলেন, “গুজবের ভিত্তিতে একটি বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা অগ্রহণযোগ্য। এতে পুরো ব্যবসায়ী সমাজ আতঙ্কিত।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম মিঠু, ‘বন্ড’ ক্লথিং হাউসের জিএম এএমএম মনিরুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, ভবন মালিক জাহিদ হোসেন বিপ্লব, রবিউল ইসলাম রবিসহ শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।