দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আগামী অর্থবছরের আর্থিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আগামী রোববার (৭ জুন) শুরু হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রোববার বিকেলে শুরু হবে এবং এতে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ৭ মে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজেট অধিবেশন আহ্বানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে অধিবেশনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট অধিবেশনকে জাতীয় সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এ অধিবেশনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজস্ব আহরণ, ব্যয় কাঠামো এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
অধিবেশনকে ঘিরে জাতীয় সংসদ এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংসদ কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে। শনিবার (৬ জুন) থেকে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা এ অধিবেশনে স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।