মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় কবুতর চুরির সন্দেহে বর্বর কায়দায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশুটির বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চাপ দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তির নাম বাবু (৪০)। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওসার নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মঞ্জু মিয়া। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম মো. নিরব (১৩)। সে একই এলাকার নাজিম শেখের ছেলে এবং সুখবাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে সে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিরব ও অভিযুক্তরা উভয়ই কবুতর লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত ১৩ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে হারানো কবুতর খুঁজতে নিরব দক্ষিণ দেওসার এলাকায় বাবুর বাড়িতে যায়। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে বাবু (৪০) ও আরফাত (২৫) শিশুটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা নিরবকে কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার ডান্ডা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে শিশুটির বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চাপ দেওয়া হয় এবং মাথা দেয়ালে আঘাত করা হয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।
নিরবের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শিশুটির বাবা নাজিম শেখ। তিনি গিয়ে দেখেন, তার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পরদিন ১৪ ডিসেম্বর সকালে অভিযুক্তরা নাজিম শেখের বাড়িতে গিয়ে মামলা করলে ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় নিরবের পিতা নাজিম শেখ গত ১৫ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় বাবু ও আরফাতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবুকে তার নিজ বসতবাড়ি থেকে আটক করে। মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, ভিডিওতে থাকা মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।