মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সরকারি খাল দখলসহ প্রায় ৪ একর কৃষিজমি অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক, মুসল্লী ও এলাকাবাসী। উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে চলমান এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কৃষিজমি ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ির প্লট তৈরি ও বিক্রির পরিকল্পনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘নূর ফাতিমা জামে মসজিদ’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অথচ কাগজপত্রে এমন কোনো মসজিদের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকাটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ সহজে ভেতরের কার্যক্রম দেখতে না পারে। ভেক্যু ও ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ও বালু ফেলে দ্রুত জমি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে এসে কাজ বন্ধ করে দিলেও কিছু সময় পর আবারও রাতের আঁধারে কার্যক্রম চালু হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত বছর কৃষি আবাদ করার নামে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করা হয়। পরে ধীরে ধীরে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভরাট কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে করে এলাকার কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান কৃষকরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট একটি চক্র প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে এই অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, “এসিল্যান্ড এসে ঘুরে গেলেও কোনো ড্রেজার বা ভেক্যু জব্দ করা হয় না, খাল দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয় না। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।”
ড্রেজার মালিক শাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি চুক্তিভিত্তিক কাজ করছি। নেছার উদ্দিন ও কবির হোসেনের কাছ থেকে কাজ নিয়েছি। তারা টাকা দেয়, আমি শুধু বালু ফেলে জমি ভরাট করি।”
অভিযুক্তদের মধ্যে মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন দাবি করেন, তিনি সরাসরি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অন্যদিকে কবির হোসেন বলেন, “প্রশাসনের সঙ্গে কিছু সমস্যা চলছিল, তাই আপাতত কাজ বন্ধ আছে। তবে সমাধান হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান উদ দৌলা বলেন, “লৌহজং নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় ভাঙন, খাল দখল ও কৃষিজমি ভরাটের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি।” তিনি দ্রুত খাল খনন ও কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করেছেন। তবে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে কিনা, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত অবৈধ দখল ও জমি ভরাট বন্ধ করে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোর দাবি জানিয়েছেন।