সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পরিষদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকা হয়নি। কারণ সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের অস্তিত্ব বর্তমানে নেই।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এখনো আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের রায় এবং সংসদের সিদ্ধান্ত ছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব নয়। যদি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় আসে এবং সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন করা হয়, তখনই কেবল সংবিধানের মধ্যে এ ধরনের পরিষদের বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে কোনো নতুন কাঠামো যুক্ত করতে হলে প্রথমে সংশোধনী আনতে হবে। সেই সংশোধনী সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হতে হবে। এরপর সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত হলে তবেই সংস্কার পরিষদ গঠন, শপথ গ্রহণ বা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নিজেদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সংস্কার পরিষদের কোনো অবস্থান নেই। তাই সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পরিষদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গটি এখন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়, সংসদের আলোচনা এবং সম্ভাব্য গণভোট—সবকিছুর সমন্বয়ের মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।