মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির ওপর দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাওয়া এলাকার কুমারভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদাররা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মামলায় তথ্য গোপনের অভিযোগও পাল্টাপাল্টিভাবে সামনে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের কাছে যেভাবেই মামলা উপস্থাপন করা হোক না কেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার সুযোগ কারও নেই। আদালতের আদেশ অমান্য করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
মামলার বাদী খাইরুল ইসলাম রয়েল অভিযোগ করেন, উত্তর কুমারভোগ মৌজার ১০৪১ দাগের ৬৫ খতিয়ানের ২৫ শতাংশ জমি তার দাদা আজহার মাঝির মালিকানাধীন। তবে দীর্ঘদিন ধরে কুমারভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ২০১৬ সালে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০১৮ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। এর এক বছর পর ২০১৯ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
খাইরুল ইসলাম রয়েল আরও বলেন, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল তারা দেখতে পান, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ওই জমিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর ২৬ এপ্রিল আদালতে কাজ বন্ধের আবেদন জানিয়ে নতুন মামলা দায়ের করা হয়। পরে চলতি মাসের ১৩ মে মুন্সীগঞ্জের সিভিল জজ তানিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা পরিবর্তন না করার নির্দেশনা দেন।
আরেক অভিযোগকারী আরাফাত বলেন, আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও সরকারি লোকজন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানই আদালতের আদেশ না মানে, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইবে। তিনি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চায়না আক্তার দাবি করেন, খাইরুল ইসলাম রয়েল তথ্য গোপন করে আদালতে মামলা করেছেন। তার ভাষ্য, জমিটি বিদ্যালয়ের জন্য দান করা হয়েছিল এবং বর্তমানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই জমির দখলে রয়েছে। তবে মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে প্রধান গেইট ও সড়ক থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় ঘিরে দেয়াল নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়ার পর উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা হচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার জানা নেই। বরাদ্দ অনুযায়ী ঠিকাদার কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসায় সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে আদালতই বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববী মিতু বলেন, সরকারি বরাদ্দে উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে আদালত যদি জমি দাবিদারদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের মতে, আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমকে ঘিরে সৃষ্ট এ বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।