খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক আলহাজ্ব অধ্যাপক খন্দকার গোলাম মোস্তফা আর নেই। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
মরহুম অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা দৌলতপুর (দিবা/নৈশ) কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেই নয়, বরং সমাজ সংস্কারক ও ধর্মভীরু ব্যক্তিত্ব হিসেবেও এলাকাজুড়ে ব্যাপক সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।
তার প্রথম জানাজার নামাজ বাদ যোহর দৌলতপুর (দিবা/নৈশ) কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার জন্মস্থান দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধি গ্রামে। জানাজা শেষে তাকে সুগন্ধি কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
অধ্যাপক খন্দকার গোলাম মোস্তফা দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি সেনহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি সুগন্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সুগন্ধি আছিয়া খাতুন দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি সুগন্ধি কেন্দ্রীয় মসজিদ ও পাবলা বড় মসজিদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরোপকারী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন মানুষ। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি একজন সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার আগে ও পরে দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা ও চিন্তাচর্চার অংশ হিসেবে ২০২১ সালে তিনি “মুক্তির উপায়” শিরোনামে একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন, যা ধর্মীয় ও নৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়।
তার ইন্তেকালে এলাকাবাসী একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান সামাজিক ব্যক্তিত্বকে হারাল—যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এলাকাবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তিনি তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।