খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব বিকাশ চন্দ্র ঘোষ আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সিটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।
জানা গেছে, উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের মুকন্দ ঘোষের পুত্র বিকাশ চন্দ্র ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দুপুর ২টায় কালিবাড়ি শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
বিকাশ চন্দ্র ঘোষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবদ্দশায় তিনি নিজ গুণাবলীতে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের কাছে প্রিয় ‘দাদা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও সমাজ পরিবর্তন ও সম্প্রীতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়ানোই ছিল তার জীবনের মূল দর্শন। মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতেন। সামাজিক সম্প্রীতি ও বন্ধনের যে আদর্শ তিনি স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বহু সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করেছেন। পরিবর্তনশীল সমাজ গঠনে নিজেকে নিবেদিত রেখে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ ও সাদা মনের ব্যক্তিত্ব এলাকার মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে দিঘলিয়া প্রেসক্লাব। শোক বিবৃতিতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
শোক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল হোসেন, নির্বাহী সদস্য এম ফরহাদ কাদির, এস এম রফিকুল ইসলাম বাবু, মোঃ শামীম হক, এস এম হাবিবুর রহমান তারেক, সিনিয়র সহ সভাপতি গাজী জামসেদুল ইসলাম সৌরভ, সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এস এম ওয়াহিদ মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম আসাদুজ্জামান, সহ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ওয়াছিক উল্লাহ হোসাইনী রাজিব, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশরাফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মোঃ সালাহ উদ্দিন মোল্যা, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম রূপম, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ রানা মোল্লা, কার্যকরী সদস্য আরিফুল ইসলাম হাসান, এস এম শামীম, সদস্য মল্লিক মোকছেদুর রহমান খোকন, মোঃ হাবিবুর রহমান মল্লিক, অধ্যাপক মোঃ লোকমান হোসেন, এস এম মেহেদী হাসান, কিশোর কুমার দে, এস এম শামীম (২), শেখ রুবেল ও রাজু আহমেদ প্রমুখ।
দিঘলিয়াবাসী একজন আদর্শবান, সৎ ও মানবিক মানুষকে হারিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরপারে তিনি ভালো থাকুন—এ প্রার্থনাই এখন সবার।