পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আলু, ভুট্টা, তামাক, ধান, পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। অনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে যায় এক ঝটকায়।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে এক বান্ডিল ঢেউ টিন ও তিন হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এই সহায়তা তুলে দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা অন্যায় ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করি না। দেবীগঞ্জকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল গণি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মোঃ তোবারক হ্যাপি, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম সোহেলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি পরিবারকে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগের পরপরই ৩৮৯৭টি পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে, যাতে তারা প্রাথমিক খাদ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি এই সহায়তা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, দেবীগঞ্জে শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পর সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আশার সঞ্চার হলেও দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।