দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ও চোরাগোপ্তা সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃশ্যমান বিচার চেয়েছে জনগণ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
রিজভী বলেন, সম্প্রতি ওসমান হাদীকে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত চোরাগোপ্তা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় দৃশ্যমান শাস্তি না হলে জনমনে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, যদি এসব ঘটনার তদন্তে কোনো ধরনের ঘাটতি বা গাফিলতি দেখা যায়, তাহলে জনগণ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ভাববে। এতে আতঙ্ক বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তাই নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
দেশে বড় কোনো চক্রান্ত চলছে কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এসব সহিংস ঘটনা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হতে পারে, অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও থাকতে পারে। এমনকি কোনো বিদেশি শক্তি বা তাদের দেশীয় সহযোগীরা এতে জড়িত কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থিত সরকার। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সমর্থনে গঠিত সরকার হিসেবে তারা সব দিক বিবেচনা করে দুষ্কৃতিকারীদের শক্ত হাতে দমন করবে—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে লক্ষ্মীপুরে আগুনে দগ্ধ এক রোগীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।