ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দেশের বড় একটি অংশ। উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এই কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক এলাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার সঙ্গে হিমালয় থেকে নেমে আসা শীতল বাতাস মিলিত হয়ে দেশের ওপর শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। সোমবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলা ছাড়াও কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও দিনাজপুরসহ মোট ১২ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এতে করে এসব অঞ্চলে শীতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের বেশি দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ফলে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি।
ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া–মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা–পাবনার কাজীরহাট নৌপথে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রোববার মধ্যরাতে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সোমবার সকাল সোয়া ৭টা থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। আরিচা–কাজীরহাট রুটে প্রায় ১০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল সোয়া ৯টা থেকে স্বাভাবিক হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে—৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে—৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও রাজধানী ঢাকায় সোমবার তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, তবে কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি কমেনি।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, শৈত্যপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা কমেছে। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার ও পরশু বুধবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এরপর আবার তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, গঙ্গা অববাহিকা হয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিস্তৃত থাকায় শীতের মাত্রা বেড়েছে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় সূর্যের কিরণকাল কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবেশদূষণ যুক্ত হয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে, যা শীতকে আরও তীব্র করে তুলছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেন, আপাতত কুয়াশা ও শীত থেকে স্বস্তির সম্ভাবনা কম। দিনে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়লেও সূর্যের দেখা না মিললে কনকনে শীত আরও কয়েক দিন দেশের মানুষকে ভোগাতে পারে।