সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ‘ভিভিআইপি মর্যাদা কমানো’ সংক্রান্ত যে সংবাদ সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রকৃতপক্ষে, ড. ইউনূসের ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন (ভিভিআইপি)’ মর্যাদার মেয়াদ কমানো হয়নি; বরং আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পূর্ণ এক বছরের জন্য এই বিশেষ মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন অনুযায়ী তিনি এই সময়ের মধ্যে এসএসএফ (Special Security Force)-এর কঠোর নিরাপত্তা ও প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
তবে ২৭ এপ্রিল দেশের কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার এই ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ অপপ্রচার।
সূত্র আরও জানায়, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা ছিল—দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত ড. ইউনূস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সেই অনুযায়ী, বর্তমানে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তার উপস্থিতিতে আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময়ও প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। দায়িত্ব ছাড়ার আগে তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ালে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের সংবাদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করে তথ্য প্রচার করা জরুরি।