লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে ভিন্ন ধরনের যান চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো শাস্তি বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করে সংস্থাটি জানিয়েছে—এ ধরনের অপরাধে জেল ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স বা হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মোটরযান চালাতে পারবেন না। এমনকি অন্য কাউকেও এভাবে গাড়ি চালাতে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লাইসেন্সে উল্লেখিত ক্যাটাগরির বাইরে অন্য কোনো ধরনের যান চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মোটরসাইকেলের লাইসেন্স দিয়ে বাস বা ট্রাক চালানো যাবে না। একইসঙ্গে যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ গণপরিবহন চালাতে বা চালাতে দিতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
আইন অমান্য করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে। এমনকি কোনো চালক শারীরিক বা মানসিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলেও তার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
বিআরটিএ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্সবিহীন চালনা, ভুল ক্যাটাগরির যান ব্যবহার, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব অনিয়মের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের ঘটনা।
এই প্রেক্ষাপটে চালকদের বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।