বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জ্বালানি আমদানি বাংলাদেশ-এর অংশ হিসেবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ১ লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে এই আমদানি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন (৫%) ইএন৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএইর আরেক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানসম্পন্ন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন হাই স্পিড ডিজেল (এইচএসডি/এজিও) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃহৎ পরিসরের জ্বালানি আমদানি দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এটি সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়োপযোগী পদক্ষেপ।