সুইজারল্যান্ডের অভিজাত স্কি রিসোর্ট শহর ক্র্যান-মন্টানায় থার্টিফার্স্ট নাইটের আনন্দ মুহূর্ত রূপ নেয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। জনাকীর্ণ একটি বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের পুলিশ জানায়, ‘লে কন্সটেলেশন’ নামে একটি জনপ্রিয় মদের দোকানে নতুন বছর বরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। ঠিক সেই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ভালাইস ক্যান্টনের ক্র্যান-মন্টানায় অবস্থিত বারটিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভালাইস ক্যান্টনের নিরাপত্তাপ্রধান স্টিফেন গাঞ্জার বলেন, হতাহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে ১০টি হেলিকপ্টার ও ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। দগ্ধ ও গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেইলি ব্লিক এক চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা কয়েক ডজন ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি লে নোভেলিসতে অন্তত ৪০ জন নিহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ‘হতাহতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি—প্রায় ৪০ জন নিহত এবং অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ হওয়া বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভালাইস ক্যান্টন সরকারের প্রধান ম্যাথিয়াস রেনার্ড বলেন, আহতদের বেশির ভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভালাইস হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক আহতকে অন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এখনো বিস্ফোরণের কারণ বা কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পরপরই ক্র্যান-মন্টানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সুইস পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। নতুন বছরের শুরুতে ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।