অগণিত মানুষকে কাঁদিয়ে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফায়জুল কবির তালুকদার-এর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তার মৃত্যুতে পুরো জিয়ানগরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ ছাড়াও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
শনিবার (২৩ মে) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতাল-এ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে খুলনায় নেওয়া হয়।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় আছরের নামাজের পর মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ফায়জুল কবির তালুকদার ছিলেন জিয়ানগরের ঐতিহ্যবাহী তালুকদার পরিবারের সন্তান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বিআরডিবির বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন দলের দুঃসময়ের সাহসী কান্ডারী।
স্থানীয়দের মতে, জিয়ানগরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তালুকদার পরিবারের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেহেউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেতার স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এফ. করিম আলিম মাদ্রাসা ও জিয়ানগর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক, থানা ভবন এবং জিয়ানগর বাজারের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য জমিদাতা হিসেবেও তাদের পরিবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
পারিবারিকভাবেও তারা দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত। তার পিতা দীর্ঘদিন ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। বড় ভাই ইকরামুল কবির মজনু একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেজ ভাই আসাদুল কবির তালুকদার স্বপনও একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ফায়জুল কবির তালুকদার নিজেও উপজেলা পরিষদের সফল ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে বিজয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
মানবিক, সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। এলাকার কোনো মানুষ অসুস্থ হলে কিংবা কারও মৃত্যু সংবাদ পেলে তিনি সবার আগে সেখানে ছুটে যেতেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক জীবনে নানা মামলা, জুলুম ও নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও তিনি নীতি ও আদর্শ থেকে কখনো সরে যাননি।
তার মৃত্যুতে জিয়ানগরবাসী একজন অভিভাবকসুলভ মানুষকে হারিয়েছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।