মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান মাছ বাজারে টোল নির্ধারণকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট টেন্ডারের দুটি রেট চার্টের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন বাংলাদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে অন্য একটি ক্রমিক অনুযায়ী টোল আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এতে করে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দেওয়া আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সমিতির পক্ষ থেকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা শহরের প্রধান মাছ বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার আহ্বান করে। তবে টেন্ডার সিডিউলের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর ক্রমিকের রেট চার্টে অসামঞ্জস্য এবং অতিরিক্ত টোল আরোপের অভিযোগ তুলে মুন্সীগঞ্জ মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-২৮৯০/২০২৬) দায়ের করে।
টেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী, ৭৬ নম্বর ক্রমিকের অধীনে মাছ পাইকারি বিক্রি করলে বিক্রয়মূল্যের ওপর শতকরা ৪ টাকা এবং ৭৭ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী দোকানে বসে খুচরা মাছ বিক্রি করলে শতকরা ৩ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু একই সিডিউলের ৭৮ ও ৭৯ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী মাছের বড় দোকান বা চাটাই প্রতি ৭ টাকা এবং ছোট দোকান বা চাটাই প্রতি ৫ টাকা টোল ধার্য করা হয়।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রির ওপর শতকরা হারে টোল আদায়ের কোনো বিধান নেই। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, সিডিউলের ৫১ নম্বর আইটেমে কাঁচামাল ও তরিতরকারির বড় দোকান প্রতি ১২ টাকা এবং ছোট দোকান প্রতি ১০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ৮০ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী হাঁস-মুরগি ও পাখির খাঁচা প্রতি ১০ টাকা এবং ১৫৭ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী গরুসহ সব ধরনের মাংস বিক্রেতার দোকান প্রতি ১২ টাকা টোল ধার্য করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রেও বিক্রির ওপর শতকরা হারে কোনো টোল নেই।
ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু মাছ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেই বিক্রয়মূল্যের ওপর শতকরা হারে অতিরিক্ত টোল আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা দোকান বা চাটাইভিত্তিক নির্দিষ্ট টোল দিতে রাজি থাকলেও বিক্রির ওপর শতাংশ হারে টোল আদায়কে অন্যায্য বলে মনে করছেন।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট টেন্ডার সিডিউলের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর রেট চার্টের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে সিডিউলের ৭৮ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি খাড়ি মাছের জন্য ৭ টাকা হারে টোল আদায়ের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন।”
এদিকে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এবং পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
পৌর সচিব আব্দুর রব জানান, আদালতের কাগজ কোর্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এলে তা গ্রহণ করা সম্ভব। তবে কোর্টের মাধ্যম ছাড়া কোনো চিঠি গ্রহণ করা পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়।
অন্যদিকে পৌর প্রশাসক মৌসুমী মাহাবুব বলেন, “মাছ বাজারের টেন্ডার স্থগিতের হাইকোর্টের আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলে টেন্ডার কার্যক্রম অবশ্যই স্থগিত করা হবে, অন্যথায় প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে তার সিএ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নজরদারি কামনা করেছেন।