পিরোজপুরের জিয়ানগরে বলেশ্বর নদীর ওপর নির্মিত আল্লামা সাঈদী সেতুর নিচে জাল মেরামতের সময় নদীতে পড়ে মাহালুম ব্যাপারি (৬০) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেয়। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ মাহালুম ব্যাপারি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বুরজুক আলী ব্যাপারির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাহালুম ব্যাপারি ও তাঁর সহকর্মীরা। যাত্রার আগে জিয়ানগরের আল্লামা সাঈদী সেতুর তিন নম্বর পিলারের গোড়া সংলগ্ন চওড়া কংক্রিটের স্লাবে বসে জাল মেরামতের কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত ট্রলার থেকে পা পিছলে বলেশ্বর নদীতে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে গেলে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ট্রলারের মাঝি হাফিজুল ব্যাপারি জানান, সকাল ১০টার দিকে তারা সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ মাহালুম ব্যাপারি নদীতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা সবাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীর স্রোত ও গভীর পানির কারণে তিনি চোখের আড়াল হয়ে যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলেরা ও আশপাশের লোকজন উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। পরে খবর পেয়ে জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে নদীর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, তাদের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বরিশাল থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তারা পৌঁছানোর পর আরও বিস্তৃত পরিসরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আল্লামা সাঈদী সেতুর নিচে পিলারের গোড়ার চওড়া স্লাবে প্রায়ই জেলেরা ট্রলার ভিড়িয়ে জাল মেরামতের কাজ করেন। জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেখানে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নিচের ওই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জেলেদের অবস্থান ও জাল মেরামতের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
বর্তমানে নিখোঁজ মাহালুম ব্যাপারিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জেলে ও প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর স্বজনরা দ্রুত উদ্ধারের আশায় ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছেন।