হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে ছদ্মবেশী প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন খুইয়েছেন দুই নারী। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল ১০টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। একের পর এক এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের একজন কালীগঞ্জ উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন। তিনি জানান, সকালে শিশু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসেন। পরে রোগীর টিকিট কাটতে কাউন্টারে গেলে বোরকা পরিহিত ছদ্মবেশী কয়েকজন নারী তার আশপাশে ভিড় করে। একপর্যায়ে কৌশলে তার ব্যাগ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে প্রতারকরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের দরিদ্র নারী হাসিনা খাতুন বলেন, তিনিও চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। একই কৌশলে প্রতারক চক্র তার ব্যাগসহ নগদ ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
দুই ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখযোগ্য যে, গত কয়েক মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার একই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটলেও এখনো চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, হাসপাতাল চত্বরে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। ভবিষ্যতে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুক্তভোগী নারীদের বাড়ি ফেরার ভাড়া হিসেবে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে সহায়তা দেন।
ঘটনাস্থলে আসা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিধান চন্দ্র জানান, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনের আইএমই নম্বর গ্রহণ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।