খুলনার দিঘলিয়ায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় সমাজসেবক ও মসজিদ নির্মাতা আহম্মদ আলী মোড়লের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য পরিচিত এই গুণী মানুষটির ইন্তেকালে পুরো দিঘলিয়া উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
খুলনার দিঘলিয়ায় সর্বজনস্বীকৃত সমাজসেবক আহম্মদ আলী মোড়ল (৯০) সোমবার ভোরে খুলনা সিটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুম আহম্মদ আলী মোড়ল দিঘলিয়া অঞ্চলে একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক সমাজসেবক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি দিঘলিয়া ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ি বায়তুল এলাহী জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জীবদ্দশায় তিনি ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
তার মৃত্যুতে দিঘলিয়া উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার আসর নামাজের পর দিঘলিয়া ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঈদগাহ ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার আলী মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ মির্জার হোসেন, দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল, মুফতি ড. রফিকুল ইসলাম, হাফেজ খান সাইদুর রহমানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, মরহুম আহম্মদ আলী মোড়ল ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধা, বিনয়ী ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ। তিনি তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন আদর্শ পিতা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সততা, মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
দিঘলিয়াবাসীর মতে, এমন একজন সাদা মনের মানুষকে হারানোর শোক সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুম আহম্মদ আলী মোড়লকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—এই দোয়া করেন সবাই।