গাজা শহর ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছে বলে শুক্রবার (২২ আগস্ট) প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে জাতিসংঘ-সমর্থিত বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। সংস্থাটি গাজাকে খাদ্য সংকটের সর্বোচ্চ ধাপ ‘পঞ্চম পর্যায়ে’ উন্নীত করেছে। অর্থাৎ সেখানে খাদ্য সংকট এখন সবচেয়ে গুরুতর এবং ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে।
আইপিসি’র প্রতিবেদনের পর মানবিক দাতব্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বলেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষের এই নিশ্চিতকরণ "সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি লজ্জাজনক ব্যর্থতা"। তাদের ভাষায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, শিশুরা কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে, অথচ বিশ্ব নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, এই দুর্ভিক্ষ কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে মানবসৃষ্ট। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ, সাহায্য ও খাদ্য সরবরাহে বাধা, স্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থার ধ্বংস এবং অব্যাহত বোমাবর্ষণের কারণে এ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মার্সি কর্পস–এর প্রধান নির্বাহী তজাদা ডি’ওয়েন ম্যাককেনা একে “একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু ভয়াবহ মানবসৃষ্ট বিপর্যয়” বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, গাজায় আমরা আমাদের কর্মীদের পরিবারকে না খেয়ে থাকতে দেখছি। মায়েরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের জন্য খাবার রাখছে। প্রতিদিন পানি ও রুটির জন্য মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “এটি বিশ্বের নৈতিক ব্যর্থতার সবচেয়ে জঘন্য উদাহরণ।”
অন্যদিকে, অক্সফাম জানিয়েছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ রোধে বিশ্ব নেতাদের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। জুলাই মাসে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের খাদ্য থেকে বঞ্চিত করেছে এবং প্রায় প্রতিটি মানবিক সহায়তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির নীতি প্রধান হেলেন স্টওস্কি বলেন, “ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর বিশ্ব সম্প্রদায় তা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার এই পরিস্থিতিকে “মানবসৃষ্ট বিপর্যয়, নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবতার ব্যর্থতা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। আর কোনো অজুহাত নেই—পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।”