চৈত্রের তীব্র গরমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন যখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তখনই স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাংলাদেশ তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের অন্তত ১৫টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দুদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকেই শুরু হয়ে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ওইদিন রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—অর্থাৎ প্রায় সারা দেশেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী ৭ ও ৮ এপ্রিল বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে। এছাড়া শ্রীমঙ্গল ও রাজারহাটেও হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে সারা দেশের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে চলমান তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিনপটিক অবস্থার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী স্বাভাবিক লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে মেঘের সৃষ্টি এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টিপাত দেশের আবহাওয়ায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।