ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের কয়েকজন সেনা সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য প্রকাশ করেছে Iran International।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চালানো অতর্কিত হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই ইরানের সামরিক বাহিনীর ভেতরে নেতৃত্ব সংকট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনারা।
ইরানের কয়েকজন সেনা সদস্য জানান, সশস্ত্র বাহিনীর কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের নিরাপত্তার আশঙ্কায় ব্যারাক ছেড়ে চলে গেছেন। তারা তাদের অধীনস্থ সেনাদের পাহারার দায়িত্ব দিয়ে ঘাঁটি ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
লোরেস্তান প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকজন সেনা জানান, খামেনি নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর ভেতরে কমান্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
একজন ইরানি সেনা বলেন, অনেক কমান্ডার হামলার আতঙ্কে ব্যারাক ছেড়ে চলে গেছেন। তারা কোনো ধরনের নির্দেশনা বা সহায়তা ছাড়াই সাধারণ সেনাদের দায়িত্ব দিয়ে ঘাঁটি ত্যাগ করেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ের সেনাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া কিছু সেনা সদস্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ঘাঁটির বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে। কয়েকজন সেনা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় তারা অনেক সময় ঘাঁটির বাইরে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সাধারণ সেনাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সামরিক বাহিনীর ভেতরে মনোবল কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, আজ রাতেই ইরানের ওপর ‘সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালনা করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।