
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বুধবার (১১ মার্চ) পরিষদের এক বৈঠকে একটি প্রস্তাব পাস করে বলা হয়েছে, ইরানের এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানায়, পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ওপর হামলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ইরান যেন বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডান–এর বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমাতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে ইরানের যেকোনো পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপরও গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অঞ্চলটিতে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি এড়ানো যায়।