প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করেছে ইরান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে, যা দেশটির আকাশপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর সামরিক আগ্রাসনের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইরান নিজেদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যদিও দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সফল হয়নি, তবুও নতুন করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। একই সময়ে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার পাকিস্তানের রাজধানীর পথে রয়েছেন। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের আশা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির উন্নতির ধারাবাহিকতায় এর আগে ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করা হয়। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর মাধ্যমে আকাশপথে যোগাযোগ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান থেকে প্রথম দফায় ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলো ইস্তাম্বুল, মাসকাট এবং মদিনা-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আকাশপথ চালু হওয়া শুধু পরিবহন খাতেই নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।