ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান বিশ্বজ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স সতর্ক করেছেন, এই উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বুধবার (৪ মার্চ) আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার এড হির্স বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে সরবরাহিত তেলের অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়বে। মার্কিন নৌবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজগুলোর যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারায় ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের বাজারে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে মার্চের শুরুতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭২–৪৮ ডলারের মধ্য থেকে বেড়ে ৮৩.৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। হির্স আরও জানান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ডিজেলের বাজারেও ইতিমধ্যেই চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপে এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্যাসনির্ভর দেশগুলো বিকল্প হিসেবে পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে।
ইরাকের বসরার রুয়াইলা তেলক্ষেত্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। হরমুজ প্রণালির বন্ধ হওয়ায় ইরাক দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রুয়াইলা তেলক্ষেত্রে গ্যাস ফ্লেয়ারের আগুনের ছবি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অসহায়তার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়া ও ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জ্বালানি সংকট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের জ্বালানি তেলের উর্ধ্বমুখী দাম জনজীবনে প্রভাব ফেলবে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রশাসনের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।