বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশা তৈরি করা ইসলামাবাদের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় ব্যর্থ হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
এই বৈঠককে ঘিরে পাকিস্তান সরকার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বৈঠকস্থল পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে আনা হয়। প্রতিনিধিদলগুলো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
তবে এত আয়োজনের পরও আলোচনায় অগ্রগতি আসেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আলোচনা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, “আমরা এখনো এমন কোনো অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।” তিনি আরও বলেন, “২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চালিয়েও আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি, যা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।”
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ত্যাগ করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অতিরিক্ত দাবি ও বেআইনি অনুরোধ’ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে সম্মান না করলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাঘাই আলোচনাকে ‘নিবিড়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এর ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন।
জানা গেছে, আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান। তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ঐকমত্য হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।