-এ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে লুটপাট করেছে এবং জনগণের অধিকার হরণ করেছে।
বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ভুয়া চারটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন সৃষ্টি করে একটি গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করেছে। এর ফলে দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণ তার প্রতিফলন দেখেছে।”
সভায় তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সমালোচনা করে বলেন, “১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতা করেছিল এবং নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন-হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তারা আজও রাজনীতিতে সক্রিয়। এটি আমাদের সবার ব্যর্থতা।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি কখনোই এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে না। যতদিন আমরা বেঁচে আছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার এই লড়াই চলবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামরুজ্জামান রতন, মোঃ মেনহাজুল আলম এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মহসীন মিয়া। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সভায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।