ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ–ঝিনাইদহ সদর আংশিক) আসনে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কালীগঞ্জ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (রাত) আনুমানিক ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল সড়ক এবং পৌরসভার হেলায় গ্রামে অবস্থিত কাপ-পিরিচ প্রতীকের নির্বাচনী অফিস দুটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অফিসে থাকা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি অন্তত চারটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হলেও সৌভাগ্যক্রমে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটেনি।
কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ছোট ভাই কাজল অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মী-সমর্থকেরা বাইরে থাকায় ওই সময় অফিসে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল চারটি মোটরসাইকেলে এসে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। প্রথমে ভূষণ স্কুল সড়কের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে পরে পাশ্ববর্তী হেলায় গ্রামের নির্বাচনী অফিসেও হামলা করা হয়। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর মদদেই এই সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের দাবি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের সহিংসতাই বরদাশত করা হবে না।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এমন সহিংসতার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।