ঝিনাইদহে সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এই ব্রিফিংকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জেলা প্রশাসক।
তার পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানকে অনুষ্ঠানে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রেস ব্রিফিং চলাকালে জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে একই দিনে দুপুরে শহরের ফুডসাফারি মিলনায়তনে “রূপান্তর” নামের একটি এনজিওর অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির চেয়ে একটি বেসরকারি এনজিওর অনুষ্ঠান কীভাবে বেশি অগ্রাধিকার পেল।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতি শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সাংবাদিকদের দাবি, দেশের অন্যান্য জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ ধরনের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরাই সভাপতিত্ব করেছেন। অথচ ঝিনাইদহে অনুষ্ঠানটি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় এবং তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে পরে ওই এনজিওর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জেলার বিভিন্ন মহল মনে করছে, সদ্য যোগদানের পর এমন কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, “ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকতেই হবে এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা থাকলেই চলত। তাই আমি সেখানে যাইনি।”