দেশের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ৫০টি পাট ও বস্ত্রকল আগামী এক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ডেপুটি কমিশনারদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে ২৫টি পাটকল ও ২৫টি বস্ত্রকল পুনরায় চালুর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি পাট ও বস্ত্রকল ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ৫০টি মিল পুনরায় চালুর কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরের মধ্যেই আরও ছয়টি কারখানা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনোভাবেই যাতে চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমামদের চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া চামড়া যাতে পচে না যায়, সে জন্য সরকারি খরচে লবণ সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, “অনেক সময় ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে মানুষ চামড়া ফেলে দেয়। কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এর মূল্য পাওয়া সম্ভব।”
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং অন্যদিকে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।