ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ওয়েল্ট (WELT)–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একটি কথিত গোপন সরকারি চিঠিতে সাতদিনব্যাপী এ শোকানুষ্ঠানে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে চিঠিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী তেহরানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক চিঠিটি ওয়েল্টের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, চিঠিটি ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে পদদলিত হওয়া, তীব্র গরম এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মতো ঝুঁকি থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে ওই চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওয়েল্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মৃত্যু ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কাজ করার জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া তেহরানের বেহেস্ত-ই জাহরা কবরস্থানে নতুন করে কয়েক হাজার কবর প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যেরও স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে তেহরান পৌরসভার এক কর্মীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন কবর প্রস্তুতের বিষয়টি বাস্তব। তিনি দাবি করেন, বিপুল জনসমাগম এবং তীব্র গরমের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ প্রথমে তেহরান থেকে কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর তা ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে।
ওয়েল্টের প্রতিবেদনে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য প্রাণহানির পূর্বাভাস, গোপন চিঠির বিষয়বস্তু এবং নতুন কবর প্রস্তুতের দাবি—সবই সংশ্লিষ্ট নথি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে। এসব বিষয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি।