মুন্সীগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভবনের কক্ষ দখল করে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছেন কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সরকারি অফিসের কক্ষ ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহারের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জেলা শহরের দক্ষিণ কোর্টগাঁও এলাকায় অবস্থিত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবনের তৃতীয়তলার বিভিন্ন কক্ষে অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তিনতলা বিশিষ্ট এই সরকারি ভবনের তৃতীয়তলার পৃথক পাঁচটি কক্ষেই তাদের বসবাসের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষগুলোতে খাট, চেয়ার-টেবিল, আলমারি এবং অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি রান্না-বান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রাখা রয়েছে। অর্থাৎ অফিস কক্ষগুলোকে পুরোপুরি আবাসিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয়তলার বিভিন্ন কক্ষে বসবাস করছেন গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী, হিসাব রক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন, অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রেজাউল হক। এছাড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলামও মাঝে মধ্যে সেখানে রাতযাপন করেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তৃতীয়তলার ১৬ নম্বর কক্ষে বিছানাপত্র নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি সপ্তাহে দু-একদিন ওই কক্ষে রাতযাপন করেন বলে জানিয়েছেন। পাশের ১৪ নম্বর কক্ষে খাট, চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে রেখেছেন গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মধ্যে সেখানে বসবাস করছেন।
এছাড়া ১৫ নম্বর কক্ষে হিসাব রক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন মাঝেমধ্যে অবস্থান করেন। প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষা অফিসারের গাড়িচালক মো. রেজাউল হক ১৩ নম্বর কক্ষে বসবাস শুরু করেন এবং এখনো সেখানে থাকছেন। অন্যদিকে অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে ১২ নম্বর কক্ষে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কথা হলে গাড়িচালক মো. রেজাউল হক জানান, তিনি ২০১৫ সাল থেকে ওই কক্ষে বসবাস করছেন। তবে এজন্য সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা দেন না। তিনি বলেন, আমিসহ মোট পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে বসবাস করছি।
গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তার বাড়ি বরিশালে এবং তার পরিবার সেখানেই থাকে। তিনি মাঝে মধ্যে অফিসের একটি কক্ষে অবস্থান করেন। ভবিষ্যতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
হিসাব রক্ষক কাম ক্লার্ক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি গত বছরের জুলাই মাসে এখানে যোগদান করেছেন এবং মাঝে মাঝে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। অন্যদিকে অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন দুই বছর ধরে চাকরি করছেন বলে জানান। তবে কতদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন জানতে চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, অফিস কক্ষে বসবাস করার কোনো নিয়ম নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, গাড়িচালক রেজাউল হক এবং অফিস সহায়ক জাকির দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তিনি নিজেও মাঝে মধ্যে সেখানে রাতযাপন করেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সরকারি অফিসের কক্ষকে ব্যক্তিগত বাসা হিসেবে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তার জানা ছিল না। যদি কেউ অফিসের কক্ষে বসবাস করে থাকেন, তবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।